ডিজিটাল অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে সমতলের এথনিক সম্প্রদায়

Author: আশরাফী বিন্‌তে আকরাম ও মোছাঃ সায়েমা জেরিন সোমা, সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।

অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি (ইনক্লুসিভ ইকোনমি) ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি (ফিন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। কেননা, এ অর্থনীতির মাধ্যমে সমাজের সর্বস্তরের জনগণ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সমান অংশীদার হয়। অন্যদিকে, তৃণমূল পর্যায় থেকেও নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেরই জাতীয় পর্যায়ে অর্থনীতিতে অবদান রাখবার সুযোগ তৈরি হবে। তাই বর্তমান সময়ে এই অংশীদারিত্বকে টেকসই করতে ডিজিটাল অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিকে অন্যতম প্রধান প্রবেশিকা হিসাবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ ফটক দিয়ে আমাদের জীবনে অনুপ্রবেশ ঘটছে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের। তবে বিদ্যমান সমাজ কাঠামোর পুরুষতান্ত্রিক মানসিকতার কারণে এই সার্ভিসেও রয়েছে লিঙ্গ ভারসাম্যহীনতা।

ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা ডিএফএস হলো কোনো কাগজপত্র ছাড়াই ডিজিটাল প্লাটফর্মের মাধ্যমে যে ব্যাংকিং করা হয়। মোবাইল এবং নেটওয়ার্ক প্রযুক্তি ব্যবহার করে  মোবাইল আর নেট ব্যাংকিং এর মাধ্যমে দাতা, গ্রহীতা এবং এজেন্টের মাধ্যমে এই সার্ভিসটি পরিচালিত হয় । বর্তমানে ডিএফএসের গুরুত্ব অপরিসীম । কারণ ডিজিটাল ব্যাংকিং এর লক্ষ্য হলো ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ব্যাংকে না গিয়ে দ্রুততম সময়ে ব্যাংকিং সুবিধাসমূহ(লেনদেন,ঋণ, জমা ও অন্যান্য)  মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছান। ইতিমধ্যে ডিজিটাল ব্যাংকিং পদ্ধতির ক্ষেত্রে এমএফএস (মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস বা মোবাইলের মাধ্যমে সেবা গ্রহণ) বাংলাদেশে  বেশ জনপ্রিয়তা  পেয়েছে।

অতি সম্প্রতি পলিসি রিসার্চ ইন্সটিটিউট (পিআরআই), “পলিসি  অ্যাডভোকেসি ইনিশিয়েটিভ ফর ডিএফএস ইন বাংলাদেশ” প্রোজেক্ট এর আওতায়  সমতলে বসবাসকারী এথনিক জনগোষ্ঠীর সাথে এমএফএসের সম্পৃক্ততার উপর একটি গবেষণা পরিচালিত হয়। গবেষণায় সমতলের এথনিক কমিউনিটির প্রধান আবাসস্থল উওরবঙ্গের রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সংখ্যাগরিষ্ঠ সাঁওতাল ও ওঁরাও সম্প্রদায়ের এমএফএস গ্রহণের হার, এই সার্ভিস গ্রহণে অসুবিধা ও ঝুঁকিসমূহ গবেষণার মিশ্র পদ্ধতি অনুসরণ করে অনুসন্ধান করার চেষ্টা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার স্বীকৃত ৫০ ধরনের এথনিক জনগোষ্ঠীর রয়েছে এদেশে (বিবিএস, ২০২২)। তন্মধ্যে সমতলে স্বীকৃতি প্রাপ্ত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ২০। কিন্তু মাঠ পর্যায়ে গবেষক টিম আরো ১৫ ধরনের  জনগোষ্ঠীর সন্ধান পেয়েছেন যারা সরকারি নথিতে এখনো স্থান পাননি। যখন একটি সম্প্রদায় নাম, এলাকা বা পরিসংখ্যানগতভাবে স্বীকৃত হয়না তখন তারা স্বাভাবিকভাবে উন্নয়নেও অন্তর্ভুক্ত হয় না।

             

          সমতলের এই এথনিক মানুষেরা একটি এলাকায় সাধারণত গুচ্ছভিত্তিক বসবাস করেন। তাদের জীবনধারণ পদ্ধতি সম্প্রদায়গত ঐতিহ্য দ্বারা ব্যাপকভাবে  প্রভাবিত। তা রক্ষার্থে দ্রারিদ্র্য আর অশিক্ষার ঘূর্ণিপাকে এখনো তারা ঘুরছে। গবেষণার প্রাপ্ত ফলাফল থেকে জানা যায়, প্রায় ৯৭% মানুষ এখনো কৃষি শ্রমিক হয়ে কোনমতে খেয়ে পড়ে বেঁচে থাকে। শারীরিকভাবে সমর্থবান হলেও ভাগ্য উন্নয়নে নিজেদের পেশা পরিবর্তনের মানসিকতার অভাব রয়েছে তাদের। ভাষা, ধর্ম বা সংস্কৃতির পার্থক্য তাদেরকে মূল স্রোতধারার জনগোষ্ঠী থেকে পিছিয়ে রেখেছে বলে তাদের অনেকেরই ধারণা ।

 

            পেশাগতভাবে পুরুষের পাশাপাশি নারীর অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্য  হলেও মাঠ পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে গবেষক দল্ এথনিক কমিউনিটির পিছিয়ে থাকার পেছনে বিশেষ একটি কারণ চিহ্নিত করেছেন। একদিকে সঞ্চয়ের মনোবৃত্তির অভাব অন্যদিকে এই মনোবৃত্তির গড়ে না উঠার পেছনে রয়েছে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কারণ।  ঐতিহ্য বা সংস্কৃতির নামে এই এথনিক জনগোষ্ঠী নিজেদের উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগ ব্যয় করে নিজেদের ঐতিহ্যগত উৎসবে । অধিকন্তু, উৎসবের আধিক্য তাদেরকে প্রায়ই কাজ থেকে বিরত রাখে। অন্যদিকে, সাঁওতালরা বিশেষত, পুরুষরা উৎসব ছাড়াও নিয়মিত চুয়ানি সেবনের (সাঁওতালদের বাড়িতে  তৈরি বিশেষ একধরনের মদ) মতো অনুৎপাদনখাতে নিয়োজিত রাখতে গিয়ে স্বাধীন পেশা হিসাবে কৃষি শ্রমিকের জীবন বেছে নিয়েছে। নিজেদের উপার্জিত অর্থের বেশিরভাগ অর্থ তারা চুয়ানির সেবনে ব্যয় করে। যা তাদেরকে সঞ্চয় করা থেকে বিরত রাখে। তাই এমএফএসে নিজেদের সম্পৃক্ত করবার বিষয়ে তাদের উদাসীনতা পরিলক্ষিত হয়। তবে তুলনামূলক শিক্ষিত যুব সম্প্রদায়ের অনেকেরই জিজ্ঞাসা ২০১৮ সালের মাদক নিয়ন্ত্রণ আইনে কেন ঐতিহ্যের নামে এথনিক জনগোষ্ঠীকে সীমিত পরিসের  পাঁচুই আর তাড়ি গ্রহণের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে । এই অনুমোদনের অপব্যবহার করে নিজেরদের প্রাত্যহিক জীবনে মদকে প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ করে রেখেছে এই জনগোষ্ঠীর পুরুষ সম্প্রদায়। এমনকি চুয়ানির খাওয়ার জন্য অর্থের টান পড়লে তারা সন্তানের জন্য আসা উপবৃত্তির টাকা না পেলে পরিবারের নারীকে শারীরিকভাবে নির্যাতন করতে দ্বিধা করে না। এভাবে তারা  দিনের পর দিন কাজ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকছে । বিচ্ছিন্ন থাকছে বাস্তবিক জীবনের প্রয়োজন ও উন্নয়ন থেকে।

 

৭৪৯ জন উত্তরদাতার তথ্যের ভিত্তিতে মাঠ পর্যায়ের গবেষণা ফলাফল থেকে জানা যায় যে মোবাইলের মাধ্যমে ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস গ্রহণের প্রথম বা প্রাথমিক ধাপ “মোবাইল ফোনের মালিকানা” তা আছে মাত্র ৭৭ শতাংশ জনগোষ্ঠীর। তবে বয়স ও লিঙ্গভেদে এই মালিকানায় তারতম্য পরিলক্ষিত হয়। তবে এই জনগোষ্ঠী বেশিরভাগ লোকজন মোবাইলের ব্যক্তিগত মালিকানার চেয়ে পারিবারিক মালিকানাকে যথেষ্ট বলে মনে করেন। ফলে পরিবারের একটি মাত্র মোবাইল ফোন বেশিরভাগ সময় ১৮-৩৫ বছর বয়সীদের দখলে থাকে। অন্যদিকে মাত্র ৩১ শতাংশ মহিলার কাছে মোবাইলের মালিকানা আছে। পরিসংখ্যানগত এই তথ্যগুলো পিছিয়ে পড়া এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রথম পর্যায়ের ডিজিটাল বিভাজনকে সহজেই চিহ্নিত করে।

            গবেষণায় জানতে পারা যায় প্রায় ৮৪ শতাংশ এজেন্টের মাধ্যমে এমএফএস একাউন্ট খুললেও তন্মধ্যে অর্থ লেনদেন করেন মাত্র ৪২ শতাংশ এথনিক জনগোষ্ঠী । তন্মধ্যে  ৭৫ শতাংশ পুরুষ আর মাত্র ২৫ শতাংশ মহিলা এই বিষয়ে সক্রিয়। এর অন্যতম কারণ হলো নিরক্ষতা। মাত্র ৩৫ শতাংশ  জনগোষ্ঠী কোনমতে ক্লাশ টেন অবধি পড়েছেন। তবে যারা তাদের পল্লী থেকে বেরিয়ে এসে শহরের অন্যত্র আলাদা বসবাস শুরু করতে পেরেছিলেন তারা এখন এই সম্প্রদায়ের শিক্ষিত লোকজন। তবে এ হার মাত্র ২ শতাংশ । এই শিক্ষিতদের মধ্যে এমএফএস গ্রহণের হার বেশি । এরা কেনাকাটা , বিল পরিশোধ এখন ডিজিটালে করে থাকেন। তবে এখনো ২৭ শতাংশ এথনিক জনগোষ্ঠী রয়েছে যাদের এমএফএস সম্পর্কে কোন জ্ঞানই নেই।

            দেশে বিকাশ, রকেট, এমক্যাশ, উপায়সহ বর্তমানে ১৩টি প্রতিষ্ঠান মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে আর্থিক সেবা দিচ্ছে (ঢাকা টাইমস,২০২৩)। তবে স্থানীয় এজেন্টদের সহজলভ্যতা, তাদের সহায়তা এবং পরিষেবার কারণে বিকাশের ব্যবহার এথনিক জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি। অধিকাংশ ব্যবহারকারীদের মধ্যে এমএফএস ব্যবহার মাত্র দুইটি কাজেই সীমিত। এক, অর্থ প্রেরণ, দুই অর্থ গ্রহণ । তন্মধ্যে গবেষণায় অংশগ্রহণকারী উত্তরদাতাদের মধ্যে প্রায় ৭০ শতাংশ জনগোষ্ঠী কেবল বিভিন্ন ধরনের ভাতা, সন্তানের উপবৃত্তি, শহরে কাজ করতে যাওয়া স্বামী বা সন্তানের প্রেরিত অর্থ উত্তোলনে ডিজিটাল সেবা নিয়েছেন। এখানে উল্লেখ্য, মাঠ পর্যায়ের গবেষণায় গবেষক দল এজনগোষ্ঠীর মধ্যে ৮৪ শতাংশ একাউণ্ট হোল্ডার পেলেও, সরকার পরিচালিত সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতাভুক্ত হওয়ার জন্যই তাদের অনেকেরই এ একাউণ্ট খোলা  হয়েছে। তাই কম শিক্ষিত বা  কেবল অক্ষরজ্ঞান সম্পন্ন এই জনগোষ্ঠীর  অনেকেই যখন কেবল ভাতার অর্থ আসে তখন যদি তারা  তা বুঝতে পারেন তাহলেই ডিজিটালে এই লেনদেন করে থাকেন। সুতরাং একাউন্ট থাকা মানেই যে নিয়মিত ডিজিটাল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস নিচ্ছেন তা বলা যাবেনা । গবেষণায় বিভিন্ন সাক্ষাৎকার গ্রহণকালে জানতে পারা যায় এমন অনেক পরিবার আছে যারা একাউন্ট খোলার পর সরকারি ভাতা  কেবল একবারই বিকাশ বা নগদে নিয়ে পরবর্তীতে তারা সেই একাউণ্ট আর ব্যবহার করেননি। কারণ হিসাবে তারা সিম কার্ড হারিয়ে যাওয়া বা মোবাইল নষ্ট হওয়াকে চিহ্নিত করেছেন। অন্যদিকে অজ্ঞতা বিশেষত, নারীদেরকে ডিএফএস থেকে পিছিয়ে রাখছে। শুধু তাই নয়, এই অজ্ঞতার কারণে যেসব নারীরা ডিজিটালি লেনদেন করেন, তাদের লেনদেনের গোপন পিন নাম্বারটিও তারা পরিবারের অন্য সদস্য, নয়তো প্রতিবেশি বা এজেন্টের সাথে শেয়ার করেন।

            তবে যারা নিয়মিত এই ব্যাংকিং এ জড়িত তাদের মধ্যেও এই সেবা নিয়ে কিছু ক্ষেত্রে অসন্তোষ রয়েছে । গবেষণায় উঠে এসেছে যারা সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন, তাদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ রিপোর্ট করেছেন যদি তারা সাবধানে নম্বরগুলি না চাপেন তখন অর্থ ভুল নম্বরে স্থানান্তরিত হয়, যেহেতু অধিকাংশের  এন্ড্রেয়েড মোবাইল নাই তাই কিউআর কোডের ব্যবহার নিয়ে তারা ওকিবহাল নন। ৷ফলে  নিরাপত্তার ভয়ে অনেকেই এই সেবা ব্যবহারে অনাগ্রহ । অন্যদিকে, এমএফএস পরিষেবা ফি এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক সমস্যা এইসেবার প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন বলে তারা জানান। মাত্রাতিরিক্ত পরিষেবার ফি’র জন্য তারা একচেটিয়া বাজার ব্যবস্থাকে দায়ী করেছেন। এছাড়া এই সেবা গ্রহণে কর্তৃপক্ষের নজরদারির অভাবে প্রতারণার শিকারও হয়েছেন বলে তারা জানিয়েছেন। এজন্য নিয়মিত ডিজিটাল আর্থিক পরিষেবা গ্রহণ করতে এখনও এই জনগোষ্ঠীর অনেকেই দ্বিধাগ্রস্ত । তাই স্বাক্ষরতার অভাব এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞানের অভাবের পাশাপাশি উপরোক্ত সমস্যার কারণে  তারা বিশ্বাস করেন যে নিম্ন আয়ের ব্যক্তি হিসেবে তাদের এই পরিষেবার প্রয়োজন নেই । তবে এর বাইরেও গবেষক দল আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ খুঁজে পেয়েছেন যা এই জনগোষ্ঠীকে ডিএফএস থেকে বিচ্ছিন্ন রেখেছে, বিশেষত নারীদেরকে । স্বল্প আয়ের এই নারীদের অনেকে মনে করেন  বিকাশে বা নগদে টাকা জমা রাখার সুযোগ থাকলেও তা থেকে তারা কোন মুনাফা পান না। কিন্তু সপ্তাহান্তে তারা যদি ৫০ টাকাও স্থানীয় কোন এনজিওতে রাখেন তা থেকে তাদের মুনাফা আসবে। তাছাড়া বিপদে-আপদে এইসব এনজিও বা সমিতি থেকে তারা ঋণ নিতে পারেন যা ডিএফএসে সম্ভব না।

অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের জন্য, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী এবং তাদের চ্যালেঞ্জগুলিকে অনেক পরিষেবার মতো ডিএফএস-সেক্টরেও মোকাবেলা করা জরুরি। সমতলের  এইসকল এথনিক সম্প্রদায়  দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা, নিম্ন আয়  ইত্যাদি মৌলিক  সমস্যায় জড়িত ৷ এই সমস্যাগুলোর জন্য নিজেরা যেমন দায়ী তেমনি দায়ী বিদ্যমান আর্থ সামাজিক প্রেক্ষাপটও। সম্প্রদায়ের নিজস্ব সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে তা সমাধান না করলে কোন  জনগোষ্ঠীকেই অর্থনীতির  মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না । । তাই শিক্ষার হার বৃদ্ধি, আয়-উৎপাদনের সুযোগ এবং প্রশিক্ষণ এবং সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি । স্থানীয় এনজিওরা এথনিক নারীর উন্নয়নে যতো কাজ করে সেখানে পুরুষের অন্তর্ভুক্তিকে জোরারোপ করেছেন গবেষণার উত্তরদাতারা। তাতে তারা নেশা দ্রব্য থেকে দূরে থাকবে বলে তারা মনে করে। পাশাপাশি এলাকার নেটওয়ার্কের মান উন্নত করে এলাকাকে উন্নয়নের আওতায় আনতে হবে। এছাড়া  জাতীয় পর্যায়ে লেনদেনের খরচ কমানো হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থানীয় লোকেরাও তখন উপকৃত হবে বলে তারা মনে করেন। তবে এ পর্যায়ে কেন লেনদেনের খরচ এতো বেশি এবং কিভাবে তা সকলের নাগালের মধ্যে আনা সম্ভব এ বিষয়ে সরকারের নীতি নির্ধারক মহলের চিন্তা করার এখনই সময়।

পরিশেষে, সমাজে যখন একটি ব্যবস্থার প্রচলন হয় তা শুরুতে নিরীক্ষামূলক ভাবে চলে বহুদিন । ২০১০ সালে এইদেশে সর্বপ্রথম চালু হওয়া এমএফএস আজ প্রায় একযুগ পেরিয়েছে ( হোসেন, ২০১৯)। কিন্তু এই সার্ভিসে সমাজের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি কতটুকু?  স্মার্ট লেনদেনটি কাদের কাছে জনপ্রিয় হচ্ছে? ক্যাশবিহীন কেনাকাটায় স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছেন কারা? ডিজিটাল সেবায় ঝুঁকছেন কোন গ্রাহকেরা? দেশের নতুন এই ডিজিটাল অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় উল্লিখিত এই প্রশ্নের উত্তরগুলোতে আমরা কি সমতলের এই আদিবাসীদের কথা অন্তর্ভুক্ত করতে পারি? যদি না পারি তাহলে সমতলের এই আদিবাসীদের মতো  আরো অনেক প্রান্তিক জনগোষ্ঠী রয়েছে তাদেরকে বাদ দিয়েই কি এই ব্যবস্থা অগ্রসর হবে?

Related Articles

default-blog-cover

Agent banking: a new approach for financial deepening

Bangladesh has done exceptionally well in reducing poverty in the last five decades.

By: Dr Ahsan Mansur, Executive Director, Policy Research Institute of Bangladesh (PRI) and Hasnat Alam, Economist, PRI

Date: 01 Dec, 2022

Read More
766A0537-min

ডিজিটাল অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তিতে সমতলের এথনিক সম্প্রদায়

অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতি (ইনক্লুসিভ ইকোনমি) ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য বর্তমান সামাজিক প্রেক্ষাপটে অর্থনৈতিক অন্তর্ভুক্তি (...

By: আশরাফী বিন্‌তে আকরাম ও মোছাঃ সায়েমা জেরিন সোমা, সহযোগী অধ্যাপক, সমাজবিজ্ঞান বিভাগ, হাজী মোহাম্মাদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, দিনাজপুর, বাংলাদেশ।

Date: 08 Jun, 2023

Read More

State of Digital Financial Services (DFS) among Farmers in Bangladesh

As the agriculture sector ensures food and nutrition security, on the one hand, it also plays an important role in keeping the eco...

By: Dr. Md. Akhtaruzzaman Khan Professor and Head Department of Agricultural Finance and Banking Bangladesh Agricultural University, Mymensingh

Date: 28 Mar, 2023

Read More